
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় স্বামী আমির হোসেনকে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সুপরিকল্পিতভাবে মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪তম সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি পেশ করেন তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাইব্যুনালে তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিহতের স্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে পৌঁছালে আমির হোসেনের মাথার পেছন দিক দিয়ে গুলি ঢুকে চোয়াল দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেদিন দুপুর সোয়া দুইটার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে উল্লেখ করে তিনি তৎকালীন পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন।
এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে বন্দি রয়েছেন। এছাড়া মামলার অপর দুই পলাতক আসামি হলেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর হিসেবে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মামুনুর রশিদ, সঙ্গে ছিলেন মার্জিনা রায়হান ও মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। স্বামীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্ত্রী।