
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল জীবিকা নির্বাহ বা চাকরি নিশ্চিত করা নয়, বরং নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে দেশের একজন যোগ্য ও ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবনির্মিত প্রধান ফটক উদ্বোধন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম প্রধান উপায় হলো নিজেকে দেশের জন্য একজন দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করা। শুধু বাহ্যিক অবকাঠামো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ বা উন্নত আসবাবপত্র দিয়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান বিচার করা যায় না। শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রয়োজনীয় ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করছে কি না, সেটাই হলো একটি বিদ্যালয়ের মানের আসল মাপকাঠি। ভালো উপার্জনের জন্যও শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল শিক্ষিত জাতি গঠন করলেই চলবে না, বরং তার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও সমানভাবে জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যক্তিগত যত্নের বিষয়ে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের আহ্বান জানান।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্তান পরীক্ষায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করতে না পারলে অভিভাবকদের হতাশ হওয়া বা তাদের বকাঝকা করা একদম ঠিক নয়। সন্তানের ওপর নিজেদের উচ্চাশা বা ইচ্ছা জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে তাদের নিজস্ব প্রতিভা ও আগ্রহ বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা না করে বরং তাদের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতা অর্জনে উৎসাহ জোগাতে হবে এবং শিক্ষকদের পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত লজিস্টিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, এলাকার মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাই তাদের কল্যাণে কাজ করার বড় দায়িত্ব তাঁর রয়েছে। বিদ্যালয়টিকে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে তাঁর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবন গড়ার এই সময়ে নিজেদের শতভাগ পরিশ্রম ও সময় পড়াশোনায় কাজে লাগাতে হবে। সময়ের সদ্ব্যবহার করে অর্জিত জ্ঞান ও যোগ্যতাই মানুষের জীবনে প্রকৃত সম্পদ, যা কখনো ফুরিয়ে যায় না বরং অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিলে তার সুফল পুরো সমাজ ও বিশ্ব লাভ করে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোরশেদা বেগমের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সূচিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শফিউল আজমসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।