
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় দেশের প্রায় এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে নাগরিক সেবা প্রদানকারী এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে অর্থাৎ প্রশাসকদের কব্জায় চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে তিন হাজারের বেশি ইউপির নির্বাচনের আইনি সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু নভেম্বর মাসেই এক হাজার ৮৫০টির বেশি এবং ডিসেম্বরে প্রায় সাড়ে আটশ ইউপির ভোটের মেয়াদ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাচন থেকে পাঁচ বছর পূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সরকারের অনীহা ও বিভিন্ন বাস্তব কারণে চলতি বছরে তা করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইতোমধ্যে ১৪৪ জন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কোথাও সরকারি কর্মকর্তা আবার কোথাও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ধাপে ধাপে সব ইউপিতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারিতে দুই থেকে তিন ধাপে কমবেশি দুই হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণের কথা ভাবছে কমিশন। বাকি ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন রোজা, ঈদ এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসকের মাধ্যমেই এসব পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে বর্তমানে দেশের প্রায় সিংহভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানই অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন প্রশাসক দিয়ে পরিচালনা করা সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না করাকে আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত গণতান্ত্রিক উপায়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তরণের তাগিদ দিয়েছেন।