
কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে বহনকারী গাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সফরে কুষ্টিয়ায় গিয়ে সন্ধ্যায় লালন আখড়াবাড়িতে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। পরে একদল লোক তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ঘিরে ধরে হামলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থাকা গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সেটির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
এনসিপির মিডিয়া টিমের নেতা ইয়াসির আরাফাত দাবি করেছেন, হামলাকারীদের ছোড়া ইট নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে লাগে। তাঁর দাবি, নাসীরুদ্দীনসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন।
ঘটনার পর পুলিশ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন। তবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, হামলার সঙ্গে ছাত্রদল জড়িত নয়।
এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি হামলার নিন্দা জানান এবং দাবি করেন, এটি নাসীরুদ্দীনের ওপর পঞ্চম হামলার ঘটনা। একই পোস্টে ভাঙচুর করা গাড়ির ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।
হামলার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।