
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন চরলাপাং গ্রামের ফুল মিয়া (৬০) এবং একই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি (২২)। তাদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরলাপাং গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে অহিদ মিয়ার সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও বিরোধের রেশ থেকে যায়।
এর মধ্যে গ্রামের মুসলেম মিয়া কৃষকদের জমিতে ভাড়ায় চাষ দেওয়ার জন্য একটি ট্রাক্টর কিনে আনলে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ট্রাক্টর ভাড়ার ব্যবসায় নিজেদের একক আধিপত্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অহিদ মিয়া ও তার ভাই উবায়দুল মিয়া ক্ষুব্ধ হন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
স্থানীয়দের দাবি, শনিবার রাতে অহিদ মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর এলাকা থেকে ভাড়ায় লোকজন নিয়ে আসেন। পরে তাদের নিয়ে মুসলেম মিয়ার লোকজনের ওপর হামলা চালানো হলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গোলাগুলি শুরু হলে মুসলেম মিয়ার পক্ষের ফুল মিয়া ও উম্মে হানি গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষে আরও আটজন আহত হন।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রোকসানা খাতুন জানান, রাতে ডান হাতে গুলিবিদ্ধ দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে অহিদ মিয়া ও মুসলেম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। সম্প্রতি গ্রামের রাস্তা নিয়ে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। এক পক্ষ রায়পুরার মির্জারচর থেকে লোকজন ভাড়া করে এনে হামলা চালায় বলে তিনি জানান।
ওসি আরও বলেন, সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।