
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এবং নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা, যা এতদিন ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ফলে এক লাফে প্রতি সিলিন্ডারে দাম বাড়ছে ২৫২ টাকা।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে কিছু অসাধু অপারেটরের বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসার পর গত শনিবার জ্বালানিমন্ত্রীর দপ্তরে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চাহিদামতো পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি করা সত্ত্বেও কেন বাজারে এই সংকট এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে অপারেটরদের কাছে কড়া জবাব তলব করা হয়। লোটাব নেতারা আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি খরচ বৃদ্ধির কথা বললেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও জাহাজ ভাড়া বাড়ার অজুহাতে আগে থেকেই ট্যাংকার ও জাহাজে গ্যাস মজুত করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল।
গত ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে এবং কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। নতুন এই দাম নির্ধারণের ফলে সাধারণ ভোক্তা ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর আর্থিক চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেল। বিইআরসির এই নতুন মূল্যতালিকা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হলেও বাজারে এর কঠোর বাস্তবায়ন এবং কৃত্রিম সিন্ডিকেট ভাঙাটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি।