
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ দলটির প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসিকিউটর জানান, দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে ইতিমধ্যে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগও প্রস্তুত করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর বর্তমানে ছুটিতে থাকায় তাঁর অনুমতি সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে। চিফ প্রসিকিউটর কর্মস্থলে ফিরলেই এই কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন পক্ষ।
প্রসিকিউশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তালিকায় আমির হোসেন আমু ছাড়াও রয়েছেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির মতো হেভিওয়েট নেতারা। অভিযুক্ত এসব মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রায় সবাই বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সংঘটিত নৃশংসতা ও হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান এসব মামলার তদন্ত সম্পন্ন সাপেক্ষে এখন ধাপে ধাপে ফরমাল চার্জ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।