
প্রযুক্তির চরম অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যথেচ্ছ প্রয়োগে জনপ্রিয় তারকাদের নিশানা বানানোর ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবার সেই নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার জুনিয়র এনটিআর ও বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। তাঁদের অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দেভরা: পার্ট ১’-এর জনপ্রিয় গান ‘চুট্টামল্লে’-এর একটি দৃশ্য এআইয়ের সাহায্যে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এই অভিনেতা। এই জঘন্য কাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার তারকাদের জন্য এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে রাশমিকা মান্দানা, আলিয়া ভাট বা ওয়ামিকা গব্বীর মতো অভিনেত্রীরা এই সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন। এবার জাহ্নবী কাপুর ও জুনিয়র এনটিআরের গান বিকৃত করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি কঠোর বিবৃতি দিয়েছেন এই দক্ষিণী সুপারস্টার।
বিবৃতিতে জুনিয়র এনটিআর এই ঘটনাকে ‘অসহ্য, জঘন্য ও নির্লজ্জ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সংস্কৃতিতে নারীদের মা ও দেবী হিসেবে সম্মান করা হয়, সেখানে কিছু মানুষ কতটা নৈতিকতাহীন হলে এআই ব্যবহার করে একজন নারীকে এভাবে নিকৃষ্টভাবে অসম্মান করতে পারে! এ ধরনের অবমাননাকর কনটেন্ট তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরপরই ওই বিকৃত ও ডিপফেক ভিডিও তৈরির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দোষীদের কাউকেই তিনি ছাড়বেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, যেন এ ধরনের অপপ্রচারের কনটেন্ট কেউ না দেখেন এবং শেয়ার না করেন। খুব সংবেদনশীলভাবে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, আজ প্রযুক্তির এই অপব্যবহার অন্য কারও সঙ্গে ঘটছে, কাল তা যেকোনো সাধারণ মানুষের পরিবার বা বোনের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার রোধে দেশের কেন্দ্র ও সব রাজ্য সরকারকে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন ও সাইবার সুরক্ষায় দ্রুত জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন জুনিয়র এনটিআর। উল্লেখ্য, অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রের সুরে অনবদ্য এই গানটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং এই সিনেমার মাধ্যমেই তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক হয়েছিল জাহ্নবী কাপুরের। কিন্তু সাইবার অপরাধীদের এমন বিকৃত মানসিকতা আবারও প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে