
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় সুপারস্টার বিজয় দেবেরাকোন্ডা মানেই পর্দায় নতুন কিছু চমক এবং চরিত্রের সঙ্গে নিদারুণ একাত্মতা। প্রতিটি নতুন সিনেমার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলা এই অভিনেতা ক্যারেক্টার লুক পারফেক্ট করতে কতটা কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেন, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেয়ার করেছেন। বর্তমানে অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রণবালী’ নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও, এর মাঝেই আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘লিগার’-এর শুটিংয়ের পেছনের এক রোমহর্ষক ও কঠিন অভিজ্ঞতার কথা।
বলিউডে অভিষেকের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ‘লিগার’ সিনেমায় একজন এমএমএ যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিজয়। চরিত্রের প্রয়োজনে পেশিবহুল ও ছিপছিপে শরীর তৈরি করার জন্য তাকে কঠোর শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন চার থেকে ছয় লিটার পানি পান করার অভ্যাস থাকলেও, চরিত্রের স্বার্থে সেই পানির পরিমাণ কমিয়ে মাত্র ১০০ মিলিলিটারে নামিয়ে এনেছিলেন এই অভিনেতা। শুধু তাই নয়, শুটিংয়ের আগে টানা ১০ ঘণ্টা পানি না খেয়ে থাকার মতো চরম পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে।
শরীরের অতিরিক্ত জলীয় অংশ কমিয়ে পেশির সংজ্ঞা ফুটিয়ে তুলতে এই বিপজ্জনক পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলেন তিনি। অতিরিক্ত তেষ্টা পেলে পানি খাওয়ার উপায় ছিল না, ফলে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তাকে মুখের ভেতর বরফের টুকরো রেখে থাকতে হতো। অভিনেতা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই পদ্ধতিটি মোটেও স্বাস্থ্যকর বা সহজ ছিল না। শুটিং চলাকালীন সবসময় তাঁর মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরপাক খেত কখন চার ঘণ্টার শুটিং শেষ হবে এবং তিনি কখন এক চুমুক পানি পান করতে পারবেন।
শুটিং শেষ হওয়ার পর খাবার নিয়ে কোনো আগ্রহ না থাকলেও তাঁর একটাই দাবি থাকত, যেন চার লিটার ডাবের পানি নিয়ে তাঁর টিম প্রস্তুত থাকে। এমনকি শুটিংয়ের মাঝে আড়াই ঘণ্টা পার হতেই তিনি টিমকে দ্রুত কাজ গুটিয়ে নেওয়ার তাড়া দিতেন। একজন অভিনেতার নিখুঁত পারফরম্যান্স ও চরিত্রের প্রতি এমন চরম নিষ্ঠার পেছনের এই ভয়ংকর ও কঠিন অভিজ্ঞতা দর্শকদের যেমন তাক লাগিয়ে দিয়েছে, তেমনি শিল্পীর পেশাদারিত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।