
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এই বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুনানি শেষে আদালত পুলিশ বা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করেন। ঢাকার মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান আদাবর থানার এই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।
মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সংঘটিত একটি হত্যার ঘটনায় ওই বছরের ২৩ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট আবেদনে বলা হয়েছে, কাজী হাবিবুল আউয়াল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিইসির দায়িত্ব পালনকালে ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিলেন। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনের স্বার্থেই তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো প্রয়োজন বলে পুলিশ আদালতকে অবহিত করে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে সাংবিধানিক লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা অন্য একটি মামলায় ২০২৫ সালের জুনে মগবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর শারীরিক অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে চেম্বার আদালত সেই আদেশ স্থগিত করেন। ফলে বর্তমানে অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া ও নতুন এই হত্যা মামলার মুখোমুখি হয়ে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।