
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু অভিযোগ করেছেন যে, সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের এলাকার উন্নয়নে যতটা কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, তিনি তার কিছুই পাননি। গত রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ ও খোলামেলা পোস্টে তিনি এলাকার বঞ্চনা এবং কাজের সীমিত পরিধি নিয়ে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে ডা. মিতু জানান, রাজনীতির মাঠে সরাসরি মানুষের পাশে থেকে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি চিকিৎসা পেশা ছেড়ে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে এসেছিলেন এবং সরাসরি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ায় এবং তিনি বিরোধী দলীয় হওয়ায় এলাকার জন্য যে পরিমাণ উন্নয়নমূলক বরাদ্দ ও কাজ পাওয়ার কথা ছিল, সরকার তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এর ফলে তার এলাকার সাধারণ মানুষও তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
তার এলাকাটিকে দেশের অন্যতম অনুন্নত দশটি অঞ্চলের একটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানকার রাস্তাঘাটসহ সার্বিক অবকাঠামোর করুণ দশা সচক্ষে তিনি দেখেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে সামান্য কাবিখা ও কাবিটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা দুটি উপজেলায় ভাগ করে দেওয়া হলেও তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, এই নামমাত্র বরাদ্দেরও যেন এক পয়সাও অপচয় বা অনিয়ম না হয়। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রকৃত হকদারকে মূল্যায়ন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর এলাকার কোনো বিএনপি কর্মী বা সমর্থকও যদি ন্যায্য প্রাপ্যতার হকদার হন, তবে তাকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা হবে না। জনস্বার্থে দলীয় সংকীর্ণতা ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে সব সংসদ সদস্যকে দলমতের বাইরে গিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এই নারী সংসদ সদস্য।