
যুদ্ধের দাবানল ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত মিয়ানমারে প্রায় দেড় হাজার অভিবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালের দিকে মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো ১ হাজার ৪৭৬ জন নাগরিককে বহনকারী মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ থানলিনের নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় ধরে আটক থাকার পর স্বজনরা তাদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ঘাঁটির বাইরে ভিড় করলেও চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রায় ৫ হাজার অভিবাসীকে ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ এটি। প্রত্যাবাসনকৃত এই দলটিতে ১ হাজার ৩৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের পাশাপাশি ৭৯ জন নারী এবং ২৭ জন শিশু রয়েছে। যদিও ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রয়েছে কি না, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের একটি বড় অংশই রোহিঙ্গা। এর আগে আটককেন্দ্রে থাকা এসব মানুষ স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজি হয়েছেন বলে মালয়েশিয়া দাবি করলেও, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে যে, এই অভিবাসীরা সত্যিই স্বাধীন ও তথ্যভিত্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না, তা যাচাই করার সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধে দীর্ণ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো এসব নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক এই প্রত্যাবাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, দেশটিতে চলমান ব্যাপক সহিংসতা, নির্যাতন ও সামরিক বাহিনীর জোরপূর্বক নিয়োগের মুখে কাউকে ফেরত পাঠানোর সময় এটি নয়। সাম্প্রতিক সময়েও রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, অভিবাসীরা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করায় আরও সাড়ে তিন হাজারের বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করছে।