
জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হঠাৎ বিদায় নেওয়ার পর এবার পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসকে সরাসরি ও প্রকাশ্য আক্রমণে জড়িয়ে পড়েছেন রোনালদোর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ। কোচ ও সিআরসেভেনের মধ্যকার এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি জর্জিনা তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের নাম সংবলিত একটি গ্রাফিক পোস্ট শেয়ার করেন। ওই গ্রাফিকে কোচের কৌশল ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখা ছিল ‘জর্জ জেসুস যদি মনে মনে জানতেনই যে রোনালদোকে খেলানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই, তাহলে প্রথমে তাকে ডাকলেন কেন? কিছু প্রমাণ করার জন্য? এটা কর্তৃত্ব নয়, এটা নিরাপত্তাহীনতা।’ এই পোস্ট শেয়ার করার মাধ্যমে জর্জিনা মূলত কোচের কঠোর সমালোচনাকেই প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কোচের পদবি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘আমি জানি না এই লোক কীভাবে খ্রিস্টের (Jesus) নাম বহন করতে পারে।’ যদিও কিছু সময় পর তিনি স্টোরিটি ডিলিট করে দেন, তবে এর আগেই তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
রোনালদোর এই দুঃসময়ে কেবল জর্জিনাই নন, তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও সরব হয়েছেন। রোনালদোর বোন এলমা আভেইরোও সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে একটি বার্তা দিয়েছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন ‘তুদো দিতো’ (যার অর্থ সব বলা হয়ে গেছে)। অন্যদিকে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে ভক্তদের মনে তৈরি হয়েছে চরম সংশয়। তিনি নিজে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন বলে শোনা গেলেও এখনো মুখ খোলেননি।
এদিকে কোচ জর্জ জেসুস দলের বাকি ২৪ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গণমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেছেন যে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই এবং দল পরিচালনা বা খেলোয়াড় বাছাইয়ের সম্পূর্ণ এখতিয়ার একান্তই তার। সবার জন্য নিয়মের কড়াকড়ি সমান থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিলেও, জর্জিনার এই প্রকাশ্য আক্রমণ ও রোনালদোকে ঘিরে চলা সমালোচনার পর পর্তুগিজ শিবিরে অস্বস্তি যে অনেকটাই বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।