
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে মাঠে নামার এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই দেশের ফুটবলের সর্বকালের এক অনন্য রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন উদীয়মান তারকা কাভান সুলিভান। শনিবার রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার আসন দখল করেছেন তিনি। গোল করার সময় সুলিভানের বয়স ছিল ১৭ বছর ৫ দিন।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে এই ঐতিহাসিক গোলটি আসে। মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেলের একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান সুলিভান। এরপর অত্যন্ত চতুর ও চমৎকার এক চিপ শটের মাধ্যমে বল গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে সরাসরি জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তার এই দারুণ গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই সতীর্থ মাথিস আলবার্ট চিলির বিপক্ষে গোল করে দেশটির সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন, যার বয়স তখন ছিল ১৭ বছর ১৩১ দিন। কিন্তু সুলিভান সেই রেকর্ড টিকতে দিলেন মাত্র কয়েকদিন।
রেকর্ড গড়ার বিষয়টি সুলিভানের জন্য নতুন কিছু নয়। নিজের ১৭তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে পেরুর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে শুরুর একাদশে মাঠে নেমে গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দলের সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্ত খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও তিনি অনেক আগে থেকেই ইতিহাসের জন্ম দিয়ে আসছেন। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের একাডেমির এই তরুণ খেলোয়াড় মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অভিষেক করেন। এর মাধ্যমে তিনি ২০০৪ সালে ১৪ বছর ৩০৬ দিন বয়সে অভিষেক করা ফ্রেডি আদুর দীর্ঘ ২০ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন।
চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন সুলিভান, যার ফলেই তাকে জাতীয় দলে ডেকে নেওয়া হয়েছে। ক্লাবটির হয়ে শেষ আটটি এমএলএস ম্যাচে তিনি ছয়টি গোল করেছেন এবং আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ফিলাডেলফিয়া টানা ১২টি ম্যাচ অপরাজিত থাকার ক্লাব রেকর্ড গড়েছে। বিগত সেপ্টেম্বরে লিওনেল মেসিদের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে তিনি এমএলএসের মাসসেরা খেলোয়াড়ের সম্মান অর্জন করেন, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ড। ওই মাসে মাত্র চার ম্যাচেই তার সরাসরি গোল অবদান ছিল নয়টি (চারটি গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট)। এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে ম্যাচে এক মৌসুমে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের অবদানের রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি।