
নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই অনলাইন পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে বিগত তিন মাসের (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) এরিয়ার বা বকেয়া বেতন একসঙ্গে তুলতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে এই বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করা হবে। এজন্য চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সঠিক তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। পাশাপাশি অতীতে কোনো পদোন্নতি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে তার সঠিক অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্য মেলাতে হবে। কর্মকর্তাদের অনলাইন এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই-বাছাই করবে এবং কোনো গরমিল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে এই মূল বেতন কার্যকর হবে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করে প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭০ শতাংশ এবং ওই বছরের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের এই বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতার অংশটি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
এদিকে নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতিহীন সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্তিতে প্রথম এবং পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান থাকলেও অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া কর্মীদের নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাও এই পে-ফিক্সেশনের মাধ্যমেই সুরাহা করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা স্পষ্ট যে, অতীতে একই পদে একাধিক উচ্চতর সুবিধা পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় নতুন করে কোনো সুবিধা মিলবে না, তবে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসব চাকরির ইতিহাস ও রেকর্ড নিখুঁতভাবে যাচাই করে প্রত্যেকের বকেয়া ও নতুন বেতনের চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।