
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হতাশার পর থেকেই যেন আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। বলিভিয়ার বিপক্ষে চার গোলের জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রীতি ম্যাচে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফরোয়ার্ড থেকে শুরু করে মিডফিল্ডার—সবার জাদুকরী পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষ গোলমুখে পুরো ম্যাচে ২৮টি শট নেয় আর্জেন্টিনা, যার মধ্যে ১৬টি শটই ছিল লক্ষ্যভেদী।
ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়েই মূলত নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বুরকিনা ফাসোর মূল দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় আসতে অস্বীকৃতি জানান। বাধ্য হয়ে কোচ আমীর আব্দৌ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে স্কোয়াড গঠন করেন, যেখানে জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড় ছিলেন মাত্র একজন চেক বাবেল। ম্যাচের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাঠে নামতে বাধ্য হয় দলটি। ভ্রমণক্লান্তি, বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা এবং চরম মানসিক চাপের কারণে বুরকিনা ফাসোর তরুণ দলটি শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে।
ম্যাচের শুরু থেকেই সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে আর্জেন্টিনা। খেলার ৩ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ পেনাল্টি মিস করলেও ফিরতি শটেই দলকে প্রথম গোল এনে দেন। এর ঠিক ছয় মিনিট পর আলভারেজের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো। এরপর ১২ মিনিটে লাউতারোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় দলের তৃতীয় গোলটি করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে দলের চতুর্থ গোলটি আদায় করে নেন ফর্মে থাকা নিকো পাজ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, অর্থাৎ ৩৬ মিনিটে প্রেস্তিয়ান্নির বাড়িয়ে দেওয়া বলে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন হুলিয়ান আলভারেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোচে স্কালোনি একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন এনে দলের বেঞ্চের শক্তি ঝালিয়ে নেন। মাঠে নামেন বাদেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, মাস্তানতুওনো ও সুলে। ৫৬ মিনিটে লাউতারোর পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার শটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন ফ্রান্কো মাস্তানতুওনো। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল এই ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল। এরপর একে একে আরও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয় এবং ম্যাচের ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা জুলিয়ানো সিমিওনে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে দলের ৭-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন। এই বড় জয়ে দলের ভেতরের গোলক্ষুধা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতাই নতুন করে ফুটে উঠেছে।