
চিকিৎসা বিজ্ঞানকে রীতিমতো অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশের এক জেলের পায়ুপথ দিয়ে শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়া প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার বা দুই ফুটের কাছাকাছি লম্বা একটি জীবন্ত বাইম মাছ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেট থেকে বের করেছেন চিকিৎসকরা। চাঞ্চল্যকর এবং অত্যন্ত অস্বাভাবিক এই ঘটনাটি নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস’ নামক চিকিৎসা সাময়িকীতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ৫৫ বছর বয়সি ওই জেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তিনি জানান, হাসপাতালে আসার মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগে থেকে তার পেটে অসহ্য ব্যথা শুরু হয়েছিল। চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় দেখতে পান যে রোগীর রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও হৃদস্পন্দন কিছুটা বেশি ছিল এবং মিনিটে ১১০ বার স্পন্দিত হচ্ছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই ব্যক্তি জানান যে, হাসপাতালে আসার আগের দিন দুর্ঘটনাবশত একটি জীবন্ত বাইম মাছ তার পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে। সে সময় তিনি লুঙ্গি পরে ছিলেন এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী, লুঙ্গির খোলা অংশ দিয়েই মাছটি পিছলে পায়ুপথের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করে।
চিকিৎসকরা পেটে হাত দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে শক্ত ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা করার পর পেটের ডান পাশে একটি বড় বাইম মাছের আকৃতির কালো ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান তারা। চিকিৎসকরা তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে মাছটি অন্ত্র বা বৃহদান্ত্র ফুটো করে পেটের ভেতরের অংশে (পেরিটোনিয়াল গহ্বর) চলে গেছে। এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে অন্ত্র ছিদ্র হয়ে মারাত্মক বিষক্রিয়া ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারত। অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়। সার্জনরা রোগীর সিগময়েড কোলন অর্থাৎ বৃহদান্ত্রের এস-আকৃতির অংশ যা মলদ্বারের কাছাকাছি অবস্থিত অস্ত্রোপচার করে ফুটোটি সারাই করেন এবং পেটের পেরিটোনিয়াল গহ্বর থেকে মাছটিকে নিরাপদে বের করে আনেন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা দেখেন যে মাছটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার এবং সেটি পেট থেকে বের করার সময়ও পুরোপুরি জীবন্ত অবস্থায় ছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, অন্ত্রের দেয়াল ফুটো করে পেরিটোনিয়াল গহ্বরে পৌঁছানোর পরও মাছটি বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়েছিল কারণ এই গহ্বরটি পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোকে ঘিরে থাকা এমন একটি স্থান যেখানে অঙ্গের ঘর্ষণ রোধ করার জন্য এক ধরনের তরল পদার্থ থাকে। ওই তরল এবং সীমিত অক্সিজেন বা পরিবেশের কারণে মাছটি পেটের ভেতরেও বেশ কিছু সময় জীবন্ত ছিল বলে তারা অনুমান করেন। তবে এত দীর্ঘ সময় কীভাবে একটি মাছ মানুষের পেটের ভেতরে জীবিত থাকতে পারল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা গবেষকদের কাছেও নেই। বিরল এই চিকিৎসা ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম ব্যতিক্রমী ও কৌতূহলোদ্দীপক কেস হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।