
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে, যা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ‘আইবাস++’ পোর্টালে অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়তি বেতন ও বকেয়া অর্থ উত্তোলনের আগের এই প্রক্রিয়ায় উচ্চতর গ্রেড ও টাইমস্কেলের হিসাব নিয়ে কিছু সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং বিভাগভিত্তিক এই কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং তার চাকরি সন্তোষজনক হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পান। এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি সম্পন্ন করলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে সেইসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে, যারা আগের বেতন কাঠামোয় একই পদে বহাল থেকে একাধিকবার টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড ভোগ করেছেন। অর্থ বিভাগের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, আগের বেতনস্কেলে একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেলে ওই পদে আর নতুন করে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত একই পদে মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকলে, পরবর্তী ছয় বছর পূর্তির শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ বহাল রয়েছে। এই নিয়মের কারণে আগামী ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের পে-ফিক্সেশনে কেবল বর্তমান মূল বেতন যাচাই করলেই চলবে না; বরং চাকরিজীবীর সুদীর্ঘ চাকরিজীবনের পুরোনো রেকর্ড, পদোন্নতির ইতিহাস এবং অতীতে কীভাবে বেতন নির্ধারিত হয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিয়োগ বা পদোন্নতি পাওয়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই নিয়মের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অর্থ বিভাগে আবেদন জানিয়েছেন এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জোরালো দাবি তুলেছেন। অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, পে-ফিক্সেশনের সময় চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত রেকর্ড বা তথ্যে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে, অন্যথায় বকেয়া ও নতুন বেতন প্রাপ্তিতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিগগিরই এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ থেকে বিস্তারিত ও চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে