
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকট নিয়ে সৃষ্ট অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ‘মিথ্যা মামলা’ অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তার রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১ অক্টোবরের ঘটনার পর পুরো দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে অন্যায়ভাবে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলা এবং রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, ওই দিন বিমানবন্দরে বহু ভিআইপি যাত্রীসহ প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাদের লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি পাননি। একজন নাগরিক হিসেবে সেই চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার, আর মেজর আখতারুজ্জামান সেই অধিকারেরই সদ্ব্যবহার করেছিলেন। অথচ উল্টো তার বিরুদ্ধেই মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কারাবিধির কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, কেবল দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি, ডাকাত কিংবা পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন আসামিদের ক্ষেত্রেই হেলমেট ও হাতকড়া পরানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মেজর আখতারুজ্জামান তো কোনো অপরাধী নন, বরং তিনি স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে থানায় গেছেন। তা সত্ত্বেও কেন তাকে এ ধরনের অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো, তা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে দুজনকে বরখাস্ত করার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ নিজেই সেখানে অব্যবস্থাপনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। অথচ যারা প্রকৃত অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন তাদের ন্যায়বিচার না দিয়ে প্রতিবাদকারীকে নির্যাতন করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় যে ‘গুপ্ত’ বা স্বাধীনতাবিরোধী বলে মন্তব্য করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অনভিপ্রেত। গত ২০-২২ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাজপথে লড়াই করেছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে চারদলীয় জোটের শরিক হিসেবে একসঙ্গে আন্দোলন করার সময় বা তৎকালীন সময়ে এ ধরনের কথা কখনো বলা হয়নি। এমনকি বিগত দিনে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ও ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আজ হঠাৎ করে জামায়াতকে আক্রমণ করে আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলা হচ্ছে কেন, তা নিয়ে জনগণের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে দিল্লির কোনো গোপন সমঝোতা বা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কোনো মিল রয়েছে কি না—এমন সংশয় প্রকাশ করে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, জাতিকে বিভক্ত করে বা ভিন্ন কৌশল নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করলে দেশের জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াত সবসময় ইতিবাচক সহযোগিতা করবে, কিন্তু কোনো দেশবিরোধী বা জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতা দেখলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় তার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।