
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে অংশ নিয়েও শেষ পর্যন্ত চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর ব্রোঞ্জপদক নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার তুলনামূলক খর্বশক্তির ‘বি’ দলের কাছেও মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে লিটন দাসের দল। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স উপহার দিতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশ দল এবার আসর থেকে কোনো পদক ছাড়াই খালি হাতে দেশে ফিরছে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের এই লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের দায় স্বীকার করে পুরো দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী হয়েছেন দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ সালাউদ্দিন হতাশা প্রকাশ করে জানান, দেশবাসীর যে বিরাট প্রত্যাশা তাদের দলের প্রতি ছিল, মাঠে তারা তার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে এমন শোচনীয় পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, বোলারদের অতিরিক্ত রান দেওয়া এবং ব্যাটিংয়ের পাওয়ার প্লে-তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দল শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। বিশেষ করে দলের অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের ফর্মহীনতা ও প্রথম ওভারে বড় রান দেওয়ার বিষয়ে কোচের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা মুস্তাফিজ গত এক দশকে দলের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার হওয়ায় তার ওপর দলের ভরসা রাখাটাই স্বাভাবিক ছিল।
অধিনায়ক লিটন দাসের টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থতা এবং পুরো দলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও গেমপ্ল্যান বাস্তবায়নে ঘাটতি নিয়ে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়েন কোচ। জবাবে তিনি জানান, ক্রিকেটাররা মাঠে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছিলেন, কিন্তু মাঠের সঠিক কৌশল বা পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজে লাগাতে না পারার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। অন্যান্য ডিসিপ্লিনের মতো সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পেয়েও এমন হতাশাজনক ফলাফল করার প্রসঙ্গে কোচ বলেন যে, পুরো দলই এই ব্যর্থতার জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত। দলের এই ভরাডুবি আগামী দিনে দেশের ক্রিকেটের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে এবং নিজেদের শুধরে নিতে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।