
বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে বাসভাড়া নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এই সহিংসতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, ফলে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বনগ্রাম এলাকার এক যাত্রীর সঙ্গে বাস কাউন্টার মাস্টারের ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তারই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বনগ্রাম থেকে শতাধিক লোক টার্মিনাল এলাকায় এসে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গৌরনদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাওছার তালুকদারের দাবি, হামলাকারীরা অন্তত ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে এবং এতে স্থানীয় ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বনগ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জেল সরদার কাউন্টারে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
খবর পেয়ে গৌরনদী ও মাদারীপুরের কালকিনি থানা-পুলিশের যৌথ দল দীর্ঘ তিন ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি তবে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।