
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ফেনী সফরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাকে বহনকারী গাড়িবহর ফেনী সদর হাসপাতাল মোড়ে এসে পৌঁছালে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দিনব্যাপী এই সফরে জেলার উত্তরের সীমান্তবর্তী জনপদ পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরসূচি অনুযায়ী, ফেনী পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পরশুরাম উপজেলার সুবার বাজার সড়কের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় যান। সেখানে তিনি ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার, যেখান থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের বিশেষ সম্মানি প্রদান করা হবে। বিকেল ৫টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেনী ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে পুরো ফেনী জেলায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এসএসএফ-এর পাশাপাশি দুই হাজারের বেশি পুলিশ, র্যাব, ৯ প্লাটুন বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো সভামঞ্চ ও আশপাশের এলাকাকে রেড জোন, ইয়েলো জোন এবং হোয়াইট জোন এই তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ফেনীতে এসেছিলেন তারেক রহমান, আর সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম নিজ জেলা সফর।