
আন্তর্জাতিক বাজারে গত সেপ্টেম্বর মাসে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কেবল এক মাসেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে ৬.৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি স্পট গোল্ডের দাম কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫২ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন আগস্ট মাসের পার্সনাল কনসামশন এক্সপেনডিচারস (পিসিই) মূল্যসূচক প্রকাশের পর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। সাধারণত সুদের হার কমার প্রত্যাশা থাকলে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম বাড়ে, কারণ সুসহনীয় সুদের পরিবেশে সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বাড়ায় বাজারে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও কঠোর বা সংকোচনমূলক monetary policy বজায় রাখতে পারে। এছাড়া বন্ডের লাভজনকতা কমে যাওয়া এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতু যেমন রুপা ও প্ল্যাটিনামের দাম হ্রাসের কারণে সামগ্রিকভাবে পুরো ধাতু বাজারই সেপ্টেম্বর জুড়ে চাপের মুখে ছিল।