
মার্কিন বাহিনী সফলভাবে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকো মেরিন ঘাঁটিতে শীর্ষ সামরিক নেতাদের সমাবেশে তিনি জানান যে, মার্কিন সামরিক অভিযานগুলোর মুখে ইরানের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও যুদ্ধ প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রায় ১০ শতাংশ জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে অব্যাহতি দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই দাবির বিষয়ে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে ইরানের রাজনীতিতে কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা হামিদ রেজাইকে দায়িত্ব পালনকালে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম ইরানের কোনো সংসদ সদস্যকে কারারুদ্ধ করা হলো। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের নিবন্ধে পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ‘সংসদীয় নথি কারসাজি’ করার গুরুতর অভিযোগ তোলার জেরে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ইরানে নতুন করে বিতর্ক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার মধ্যেই এই ঘটনা ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। গবেষকদের মতে, কৌশলগত দিক নির্ধারণ ও ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন তেহরানের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।