
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। শুনানি উপলক্ষে কারাগারে থাকা ২১ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা আরও ১৮ আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে নিয়মিত বিচারক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক শুনানি পিছিয়ে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, অধ্যাপক তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, অ্যাডভোকেট এ এফ এম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার ও পংকজ নাথসহ আরও অনেকে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেশ-বিদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত হন। তদন্তে ওই সভার ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সভায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এসব তথ্য মামলার অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের অংশ; এগুলো আদালতে এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি করেন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় তদন্তের অনুমতি পাওয়ার পর মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলায় বিভিন্ন সময়ে ৩৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর শেখ হাসিনাসহ ২৪৭ জন পলাতক রয়েছেন বলে মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জানানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ওই জুম সভায় সরকার উৎখাতের বিষয়ে আলোচনা এবং গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া।
এখন ১৫ অক্টোবর মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সেদিন আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগোনোর কথা রয়েছে।