প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 9, 2026 ইং
সাংবাদিকতার পথিকৃৎ অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান আর নেই

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান আর নেই। গত রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছুদিন আগে স্ট্রোক করার পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। তবে রোববার রাতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের জানাজা আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ জন্মস্থান নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই তাকে সমাহিত করা হবে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ছাত্রছাত্রী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন তার একমাত্র কন্যা। তার মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শিক্ষা ও সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি সেখানে সুপার নিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং আমৃত্যু বিভাগটির 'অনারারি প্রফেসর' ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় থিতু হওয়ার আগে প্রায় এক দশক তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সক্রিয়ভাবে সাংবাদিকতা করেছেন। এছাড়াও তিনি ইউল্যাব ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
গবেষণা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন এবং দেশি-বিদেশি জার্নালে তার বহু গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ১৫টিরও বেশি দেশে আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন এবং আমেরিকার সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ও পিআইবি-র মতো প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তার সরব উপস্থিতি ছিল। তার প্রয়াণে দেশ একজন প্রকৃত শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানতাপসকে হারাল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা ফাইলস ২০২৬