
চীনা ভাষা বা ‘ম্যান্ডারিন’ শেখার মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণ ও পেশাজীবীদের সামনে চীন এবং দেশের অভ্যন্তরে অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় আকর্ষণীয় স্কলারশিপ, চীনে মর্যাদাপূর্ণ চাকরি এবং বাংলাদেশে কার্যক্রম চালানো বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে ম্যান্ডারিন এখন একটি অত্যন্ত কার্যকর ও যুগোপযোগী দক্ষতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। বর্তমানে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন এবং বাংলাদেশে ৫১০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
ভাষা শেখার এই সুফল পেয়ে অনেকেই আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। যেমন গাজীপুরের নাজমুল ইশতিয়াক সামান্য কিছুদিনের চেষ্টায় ম্যান্ডারিন আয়ত্ত করে বর্তমানে চীনের শাওশিং শহরে একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে রিজিওনাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে রাজশাহী বা ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা দেশ থেকেই প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে চীনে পাড়ি জমানোর পর পড়াশোনা, গবেষণা ও দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তুলেছেন। গবেষকদের মতে, ল্যাবরেটরির আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, সফটওয়্যার ইন্টারফেস এবং চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষা জানার বিকল্প নেই। এছাড়া বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খরচ বাঁচানো এবং ‘গুয়াংশি’ বা ব্যক্তিগত আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে ম্যান্ডারিন দারুণ ভূমিকা রাখছে।
চীনে গিয়ে পড়াশোনা বা চাকরি করার পাশাপাশি এখন দেশেই প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি উদ্যোগে ম্যান্ডারিন চর্চার পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট বা ক্লাসরুমের মাধ্যমে নিয়মিত ভাষার কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ কেবল সাধারণ কর্মী রপ্তানি না করে যদি ম্যান্ডারিনের মতো আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারে, তবে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন চীনা প্রকল্পেও দেশের তরুণেরা উচ্চ পদে কাজ করার দুর্দান্ত সুযোগ পাবে।