দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি, বোলিং শক্তি বাড়াতে মরিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ঘিরে দুই দলই নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সম্ভাব্য ১৫ সদস্যের দল গুছিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে ভারত। অন্যদিকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে বোলিং আক্রমণ আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিরুঅনন্তপুরমে ভারতকে শুরুতে চাপে ফেলেছিল ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। জাস্টিন গ্রিভসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং জন ক্যাম্পবেলের অর্ধশতকের ওপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ১৩৫ রান। ফলে ম্যাচের শুরুতে ভারতকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল।
তবে কুলদীপ যাদবের কার্যকর স্পিন বোলিং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন। এরপর ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন বিরাট কোহলি ও শুবমান গিল। কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান এবং গিলের ১১০ রানের শতকে ভর করে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় ভারত। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারতের নজর থাকবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলের অলরাউন্ডারদের আরও বেশি সুযোগ দিয়ে তাঁদের কার্যকারিতা যাচাই করছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশ্বকাপের আগে সম্ভাব্য কম্বিনেশন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এমন ম্যাচগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে আগামী বছরের শুরুতে গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে খেলতে হবে তাদের। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে নিজেদের বোলিংয়ের সক্ষমতা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে ক্যারিবীয় দল।
প্রথম ম্যাচে ভারতের ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিং আক্রমণে পরিবর্তনের কথা ভাবছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতি তারকা শামার জোসেফ এবং লেগ স্পিনার ভাইটেল লাওসকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তাঁদের অন্তর্ভুক্তি হলে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডারের বিপক্ষে উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করবে ক্যারিবীয় দল।
দুই দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ৩০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির আসাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে। সিরিজে এগিয়ে থাকা ভারত যেখানে বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আরও এগিয়ে নিতে চাইবে, সেখানে সিরিজে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি নিজেদের বোলিং আক্রমণের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।