
দেশে হৃদরোগের বিস্তার ও এর কারণে অকালমৃত্যুর হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের দেড় কোটিরও বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত এবং মোট মৃত্যুর প্রায় তিনজনের একজনের প্রধান কারণ এই কার্ডিওভাসকুলার রোগ। কেবল প্রবীণরাই নন, বরং তরুণ সমাজেও উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অথচ এই রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবার সুযোগ প্রয়োজনের তুলনায় এখনো অত্যন্ত অপ্রতুল ও ঢাকাকেন্দ্রিক।
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব হৃদরোগ দিবস’। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হার্ট ডিজিজ ক্যান হাইড ইন প্লেইন সাইট : ডোন্ট মিস এ বিট’। দিবসটি উপলক্ষে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা আয়োজিত এক ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ হৃদরোগে অকাল মারা যান এবং বাংলাদেশে প্রতিবছর এর কারণে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চরক্তচাপে ভুগছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদের সংকেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে এনসিডি (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ) কর্নারে পর্যাপ্ত ওষুধের তীব্র সংকট এবং এমএসআর ফান্ডের স্বল্পতার কারণে দরিদ্র রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হৃদরোগের এই নীরব মহামারি মোকাবিলায় উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বিকেন্দ্রীকরণ, ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা।