
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর অষ্টম দিনে ভারতের পদকের লড়াই আরও জমে উঠেছে। কাবাডিতে স্বর্ণপদক দিয়ে দিন শুরু করেছে ভারত। পাশাপাশি বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, আর্চারি ও অ্যাথলেটিকসে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে স্কোয়াশ, শুটিং, টেবিল টেনিস ও ফেন্সিংয়ে হতাশাও সঙ্গী হয়েছে।
দিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো একনজরে-
দারুণ লড়াইয়ের পর কাবাডিতে স্বর্ণপদক জিতেছে ভারত। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে ৩৭-৩৪ ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করে ভারতীয় দল।
ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হাতছাড়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় ভারত।
নারীদের একক স্কোয়াশ সেমিফাইনালে জাপানের সাতোমি ওয়াতানাবের বিপক্ষে চাপে পড়েছেন ভারতের আনাহত সিং।
দ্বিতীয় গেমে ১১-১৩ ব্যবধানে হারের পর ম্যাচে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। প্রথম গেমেও ৯-১১ ব্যবধানে হেরেছিলেন আনাহত।
ওয়াতানাবের গতির পরিবর্তন এবং কোর্টের বিভিন্ন কোণে শট খেলার কৌশল ভারতীয় খেলোয়াড়কে সমস্যায় ফেলছে।
বক্সিংয়ে দারুণ জয় পেয়েছেন ভারতের কপিল। সাম এস্তাকিকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
পুরো লড়াইয়েই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ভারতীয় বক্সার। ২৮ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম গিচায়ে অথবা পাকিস্তানের ইরফান খানের মুখোমুখি হবেন কপিল।
পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায় নিয়েছেন ভারতের জাদুমণি সিং।
ফিলিপাইনের কার্লো পালামের কাছে বিভক্ত সিদ্ধান্তে হেরে এশিয়ান গেমস অভিযান শেষ হয়েছে তার। শুরুতে সতর্ক লড়াইয়ের পর শেষ রাউন্ডে দুই বক্সারই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তবে প্রথম দুই রাউন্ডে পালামের এগিয়ে থাকা শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
পুরুষদের এককে কাজাখস্তানের মাখসুত তাজিকবুল্লায়েভকে ২১-৭, ২১-৭ ব্যবধানে হারিয়েছেন ভারতের আয়ুশ শেঠি। মাত্র ২১ মিনিটেই ম্যাচটি শেষ করেন বিশ্বের ২০ নম্বর ভারতীয় শাটলার।
পরের রাউন্ডে আয়ুশের প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপের চৌ তিয়েন-চেন। আগের তিন সাক্ষাতে চৌ এগিয়ে ২-১ ব্যবধানে।
মালয়েশিয়ার ওং লিং চিংকে ২১-১৪, ২০-২২, ২১-১৯ ব্যবধানে হারিয়ে নারীদের এককে রাউন্ড অব ১৬-তে উঠেছেন ভারতের উনতি হুডা।
পরের রাউন্ডে তার প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বর খেলোয়াড় পুত্রি কুসুমা ওয়ার্দানি। ২০২৫ হাইলো ওপেনে দুজনের একমাত্র সাক্ষাতে উনতি হেরেছিলেন।
নারীদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি-পজিশনের ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জিততে পারেননি ভারতের তিলোত্তমা সেন ও বিদারসা বিনোদ।
তিলোত্তমা চতুর্থ এবং বিদারসা পঞ্চম স্থানে শেষ করেছেন। প্রোন রাউন্ড শেষে তিলোত্তমা পঞ্চম এবং বিদারসা সপ্তম স্থানে ছিলেন। এর আগে নিলিং রাউন্ড শেষে তিলোত্তমা পঞ্চম ও বিদারসা ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন।
পুরুষদের একক টেবিল টেনিসে চীনের লিন শিদংয়ের কাছে ০-৪ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছেন ভারতের ম্যানুশ শাহ।
প্রথম দুই গেমে ৪-১১ ব্যবধানে হারের পর তৃতীয় গেমে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন ম্যানুশ। চতুর্থ গেমে একসময় ১০-৫ ব্যবধানে এগিয়েও ছিলেন। তবে লিন টানা সাত পয়েন্ট জিতে ১২-১০ ব্যবধানে গেম ও ম্যাচ নিশ্চিত করেন।
স্কোয়াশের মিশ্র দ্বৈতের সেমিফাইনালে হংকংয়ের তাং মিং হং ও লি কা ইয়ের কাছে ১০-১১ ব্যবধানে নির্ণায়ক গেমে হেরে যান ভারতের জোশনা চিনাপ্পা ও ভেলাভান সেন্থিলকুমার।
প্রথম গেমে ১০-১১ ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় গেমে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ভারতীয় জুটি ১১-২ ব্যবধানে জিতে ম্যাচ সমতায় ফেরায়। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক গেমে হেরে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
ডেকাথলনের শটপুটে ১৩.১৬ মিটার সেরা থ্রো করে ৬৭৭ পয়েন্ট পেয়েছেন ভারতের তেজস্বিন শঙ্কর। ফলে তার মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২,৪৮৪।
তিনি বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। জাপানের ইউমা মারুয়ামার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছনে এবং চীনের নেতা চেন শিংহুয়ার চেয়ে ৪০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছেন তেজস্বিন।
পুরুষদের ২০০ মিটারে নিজের হিটে ২১.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন ভারতের অনিমেষ কুজুর। এই জয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় স্প্রিন্টার।
নারীদের কম্পাউন্ড কোয়ালিফিকেশনে ৭২০-এর মধ্যে ৭০৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের চিকিথা তানিপার্থি। জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম ৬৯৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম এবং পৃথিকা প্রদীপ ৬৯৫ পয়েন্ট নিয়ে ২৩তম হয়েছেন।
পুরুষদের রিকার্ভ কোয়ালিফিকেশনে ৬৯৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছেন ধীরজ বোম্মাদেভারা। তিনি এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ডের পাশাপাশি জাতীয় রেকর্ডও গড়েছেন।
নীরজ চৌহান ২০তম এবং যশদীপ ২৫তম হয়েছেন। পুরুষদের দলগত নকআউটে ভারত তৃতীয় বাছাই হিসেবে খেলবে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে শীর্ষ বাছাই ধীরজ।
পুরুষদের সাবরে দলগত ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২৫-৪৫ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে ভারত।
করণ সিং, জিএন কুমারেশন ও বিশাল থাপার সমন্বয়ে গড়া ভারতীয় দল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।
এশিয়ান গেমসের অষ্টম দিনে কাবাডিতে স্বর্ণপদক দিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে ভারত। পাশাপাশি বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, আর্চারি ও অ্যাথলেটিকসে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে।
অন্যদিকে স্কোয়াশ, শুটিং, টেবিল টেনিস ও ফেন্সিংয়ে এসেছে হতাশাজনক ফল। দিনের বাকি ইভেন্টগুলোতে ভারতের পদকের লড়াই আরও জমে ওঠার অপেক্ষা।