
আবাদযোগ্য জমির সঠিক পরিসংখ্যান ও চাহিদার সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকায় কুড়িগ্রামে সার সংকট ও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অতিরিক্ত এক হাজার টন সার বরাদ্দ দিলেও মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের অদক্ষতা এবং ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে সংকট কাটছে না। উল্টো সার লুট, রাস্তা অবরোধ এবং কৃষকদের তোপের মুখে পড়ে চরম আস্থার সংকটে পড়েছে কৃষক, ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তারা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কুড়িগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ তিন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ বা বদলি করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে নতুন উপপরিচালক হিসেবে আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সার না পেয়ে ক্ষিপ্ত কৃষকদের হামলায় ইতোমধ্যে একজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং দুজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন। ভুরুঙ্গামারী, রৌমারী ও রাজীবপুরে ডিলারের গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনাও ঘটেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ডিলার পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার না মিললেও অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা বাজারে ঠিকই সার পাওয়া যাচ্ছে এবং এর পেছনে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। অন্যদিকে কৃষকদের আন্দোলন দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।