
রাজধানীসহ সারাদেশে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও বাসে অগ্নিসংযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর একটি বড় অংশের মালিক আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও নেতাকর্মী। নিজেদের বাসে আগুন দিয়ে একদিকে যেমন বিমার টাকা দাবি ও জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চলছে। তবে নাশকতার এই গোপন পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এসআরবি, ডিএমপি, ডিবি এবং সিটিটিসি এই চার বাহিনী একযোগে মাঠে নেমেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানীতে ‘হিট অ্যান্ড রান’ বা দ্রুত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর পূর্ব প্রান্তের ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো, খিলগাঁও এবং পশ্চিম প্রান্তের গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুর এলাকাকে নাশকতার প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব এলাকায় ড্রোন নজরদারি ও অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রেলওয়ের ভেতরের জড়িতদের চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, দেশের বাইরে অবস্থানকারী কিছু রাজনৈতিক নেতার নির্দেশ ও অর্থায়নে এসব অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। তবে অর্থ জোগানদাতা ও মূল নির্দেশদাতাদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রেলপথে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নাশকতাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।