
জন্মদিনের আনন্দ বদলে গেল আতঙ্কে। বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে দিল্লির কালকাজি এলাকার আস্থা কুঞ্জ পার্কে গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৭ বছরের এক কিশোরীর। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় আসিফ, হেমন্ত এবং মুকেশ নামে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে কিশোরী জানিয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ছিল তার জন্মদিন। পরিবারের অনুমতি নিয়েই বিকেলে এক বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল সে। প্রথমে দু’জনে কালকাজি মন্দিরে গিয়ে পুজো দেয়। এরপর একটি প্যাকেট চিপ্স এবং জলের বোতল কিনে তারা যায় কাছের আস্থা কুঞ্জ পার্কে। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ইসকনের মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
কিশোরীর অভিযোগ, পার্কে দোলনার কাছে বসে চিপ্স খাওয়ার সময় আচমকাই পিছন দিক থেকে তিন যুবক তাদের সামনে আসে। তাঁরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেন। অভিযোগ, প্রথমেই কিশোরীর বন্ধুকে মারধর করা হয়। দু’জনের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। ওই সময়ে পার্কে প্রবেশ নিষিদ্ধ বলেও তাঁদের জানানো হয়েছিল বলে দাবি কিশোরীর।
পরিস্থিতি দেখে ভয় পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা বলানোর চেষ্টা করে কিশোরী। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি বদলায়নি বলে অভিযোগ। কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী, সে কান্নাকাটি শুরু করলে আসিফ নামে এক যুবক পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বার করে ভয় দেখান। পরে সেটি আবার পকেটে রেখে দেন।
এর পর কিশোরীকে পার্কের আরও নির্জন ও অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে ছুরি দেখিয়ে তিন অভিযুক্ত একে একে তাকে ধর্ষণ করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে কিশোরী।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা কিশোরীর পোশাক ফিরিয়ে দেন এবং তাঁকে ও তাঁর বন্ধুকে পার্ক থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগ। কাউকে ঘটনার কথা জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি নির্যাতিতার। পুলিশকে দেওয়া বয়ানে কিশোরী জানিয়েছে, সে তখন প্রচণ্ড ভয় এবং যন্ত্রণার মধ্যে ছিল।
পার্ক থেকে বেরিয়েই কিশোরী এবং তার বন্ধু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। এরপর তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হেমন্ত পেশায় আইনজীবী। মুকেশ অঙ্কের ছাত্র এবং বিএসসি-র চূড়ান্ত বর্ষে পড়াশোনা করছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, আসিফকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পাল্টা গুলিতে তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। বর্তমানে তিন অভিযুক্তই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
ঘটনার তদন্ত চলছে। কিশোরীর বয়ানও রেকর্ড করেছে পুলিশ।