
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল সুনির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে ইরান নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আলজাজিরার প্রতিবেদন ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) প্রতিবেশী দেশ ইরাকের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের ১৯তম দফার ব্যাপক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ইরানে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করছিল—এমন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতেই এই বিশেষ হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি-র মতে, এই অভিযানটি তাদের বৃহত্তর সামরিক পরিকল্পনা ‘ট্রু প্রমিস ৪’-এর অংশ, যা বর্তমানে ১৯তম পর্যায়ে রয়েছে। এই পর্যায়ে কুর্দি অঞ্চলের ‘কোমালা’ (Komala) সহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদর দপ্তর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩টি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনের পাশাপাশি ইরান একই সাথে ইসরায়েলের তেল আবিব ও জেরুজালেমে এবং বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ‘ইয়া হাসান ইবনে আলী’ সংকেত ব্যবহার করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ক্রমবর্ধমান বহুমুখী হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।