
নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম এবং রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দায়িত্ব অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগে এলজিইডির তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের সই করা পৃথক আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাত ও রেলিংয়ের রডের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এলজিইডির বেগমগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই ঘটনায় নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদের কাছে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার ঘটনায় এর আগে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার একই ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. হাসমত আলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীর কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নকাজে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, জনস্বার্থের প্রকল্পে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। জনগণের অর্থ লুটপাট বা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার সঙ্গে জড়িত যারাই হোক না কেন, তাদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।