
নতুন পে-স্কেলের আওতায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের পেনশন ও অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, যাদের মাসিক নিট পেনশন তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে বেশি হারে পেনশন বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খলতা আনতে নিট পেনশনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন এই প্রজ্ঞাপনে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), পারিবারিক পেনশন এবং ছুটি নগদায়নের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্ত চলতি বছরের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হবে।
অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন তারিখে একজন অবসরভোগী যে নিট পেনশন পাচ্ছিলেন, সেটিকে ভিত্তি ধরেই নতুন কাঠামোর আওতায় পেনশন বৃদ্ধির হিসাব করা হবে। এই ক্ষেত্রে পেনশনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ধাপভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা ১০০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবেন। এছাড়া ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে।
এই হিসাবের ফলে অপেক্ষাকৃত কম পেনশনভোগী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা শতকরা হারে বেশি সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, যাদের বর্তমান পেনশন বেশি, তাদের ক্ষেত্রে শতাংশের হার কিছুটা কম হলেও নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে তাদের নিট পেনশন বৃদ্ধি পাবে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমান নিয়মে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পাওয়া কোনো অবসরভোগী নতুন কাঠামোয় তা দ্বিগুণ হয়ে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁদের নিট পেনশন ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি, তাঁদের জন্য সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২০০ টাকা। তবে বর্তমানে যদি কোনো অবসরভোগী এই নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি নিট পেনশন পেয়ে থাকেন, তবে আগামী ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত তাঁর বর্তমান নিট পেনশনই অপরিবর্তিত ও বহাল থাকবে।
পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মৃত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হন, তবে তিনি আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবেন। এর জন্য প্রতি বছর অন্তত একবার পুনর্বিবাহ না করার পক্ষে যথাযথ অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। তবে যেসকল বিধবার বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র প্রতি বছর দেওয়ার শর্তটি আর প্রযোজ্য হবে না।
পাশাপাশি নতুন কাঠামোতে পেনশনযোগ্য ন্যূনতম চাকরিকালের পরিধি ৫ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের সদ্য জারিকৃত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর মাধ্যমেই সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার এই নতুন বিধানগুলো কার্যকর করা হয়েছে।