
বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে দীর্ঘসময় অনুপস্থিত থাকা, ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের বারবার যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো সাড়া না দেওয়ায় এক অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ছয়জন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া ছয় কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, চারজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পরবর্তী সময়ে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তদন্তে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই তাঁর বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এবং সারদা পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত মো. আসাদুজ্জামান গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটি নিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এছাড়া সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং ঢাকা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন একই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বিনা অনুমতিতে ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রাজীব দাস ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়ে নির্ধারিত ছুটি শেষে আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। একইভাবে এপিবিএনের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে গত বছরের ১২ আগস্ট থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। এই ছয় কর্মকর্তার প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত শেষে পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।