
অফিসের দাপ্তরিক কাজে যাতায়াতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার চেয়ে কম খরচ করে বেঁচে যাওয়া অর্থ নিজের কাছে রাখা জায়েজ কি না—এমন একটি সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শরয়ী বিধান তুলে ধরেছেন মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত মুফতি মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম। পেশাগত জীবনে অনেক চাকরিজীবীকেই এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞ এই মুফতির মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান তার কর্মচারীকে যাতায়াত বা গাড়ি ভাড়া বাবদ যে অর্থ প্রদান করে থাকে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের ওপর। কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ধরন অনুযায়ী এই টাকার ব্যবহার তিন ভাগে বিভক্ত:
ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা: কোম্পানি যদি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে এই অর্থ শুধু যাতায়াতে খরচ করার জন্যই দেওয়া হচ্ছে এবং খরচ শেষে বাড়তি টাকা থাকলে তা অবশ্যই অফিসে ফেরত দিতে হবে, তবে কর্মচারীর জন্য সেই বাড়তি অংশ নিজের কাছে রাখা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। তাকে অবশ্যই অবশিষ্ট টাকা ফেরত দিতে হবে।
প্রকৃত খরচের বিল জমার নিয়ম: যদি কোম্পানির নিয়ম এমন হয় যে, কর্মচারী প্রথমে নিজের পকেট থেকে খরচ করবে এবং পরবর্তীতে প্রকৃত খরচের ভাউচার বা বিল জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা পর্যন্ত রিইম্বার্সমেন্ট বা উত্তোলন করবে, তবে কম খরচ করে সর্বোচ্চ পরিমাণের ভুয়া বিল তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি অফিসের সঙ্গে প্রতারণা এবং মিথ্যা বলার শামিল।
নির্দিষ্ট ভাতা বা ফিক্সড অ্যামাউন্ট: অফিস যদি যাতায়াত বাবদ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ফিক্সড অ্যালাউন্স হিসেবে কর্মচারীকে ওই টাকার মালিক বানিয়ে দেয় এবং বলে যে এই টাকায় যাতায়াত পরিচালনা করতে হবে, তবে কর্মচারী নিজের বাইক ব্যবহার করে বা অন্য কোনো উপায়ে কম খরচে যাতায়াত সম্পন্ন করলে বাকি টাকা তার নিজেরই থেকে যাবে। এক্ষেত্রে কম খরচে যাতায়াত সেরে বাড়তি টাকা নিজের কাছে রাখা সম্পূর্ণ জায়েজ।
এ প্রসঙ্গে ইসলামের কঠোর সতর্কবার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুফতি রাশেদুল ইসলাম হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সহীহ মুসলিম, হাদিস ১৬৪)। এছাড়া আরেকটি হাদিসে মুমিনদের নিজেদের চুক্তির ওপর অটল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানগণ তাদের শর্তের ওপর অটল থাকবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৫৯৪)।
সংক্ষেপে, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে অফিসিয়াল ভাতা ব্যবহার করাই ইসলামে নির্দেশিত পথ।