
জনগণের সম্পদের অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা হলেন মূলত জনগণের সম্পদের কাস্টোডিয়ান বা জিম্মাদার।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, কেবল কাগজে-কলমে পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং তার সঠিক ও দৃশ্যমান বাস্তবায়নই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সীমিত সম্পদ মাথায় রেখে প্রয়োজন ও সক্ষমতার মধ্যে সঠিক সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কম ব্যয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত বাস্তবতা ও জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁর উদ্যোগেই এলজিইডি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামোখাতে নতুন ধারার সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীতে গ্রামীণ জনপদের চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেওয়া দূরদর্শী উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল দেশের মানুষ দীর্ঘ মেয়াদে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে ভোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি এলজিইডির কর্মকর্তাদের হাতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তৃণমূলের কল্যাণে সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে প্রথাগত ইটের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ৬ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত ছোট সড়কে এসব উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী আরসিসি, কার্পেটিং এবং দেশীয় পাথর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া নদীতীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকার সড়কগুলোতে মাটির ক্ষয় রোধে ‘বিন্যা ঘাস’ রোপণের নির্দেশ দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারের মতো জনবহুল স্থানে সোলার প্যানেল স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব। এতে যেমন বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, তেমনি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তরে সবার আগে সোলার প্যানেল স্থাপনেরও তাগিদ দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে বা উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।