
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে একটি রুটিন প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটিতে আগুন ধরে গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলে বিশাল আকৃতির আগুনের গোলা এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার ঘণ কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার অব্যবহিত পূর্বে ওই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে থাকা বহরের অপর একটি বিমানের পাইলট বিমানটির সম্ভাব্য জরুরি অবস্থার কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) অবহিত করেছিলেন। লাইভএটিসি ডটনেটের রেকর্ডকৃত অডিও সূত্রে জানা যায়, ওই পাইলট আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে বিমানটি হয়তো কোনো উড়ন্ত পাখির সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি উন্মুক্ত মাঠে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় বিমানটির ইঞ্জিনে মারাত্মক কোনো ত্রুটি দেখা দিয়ে থাকতে পারে। মিশিগান স্টেট পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত যুদ্ধবিমানটিতে মাত্র একজন পাইলট একাই অবস্থান করছিলেন। সৌভাগ্যবশত, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তেই তিনি জরুরি ইজেকশন মেকানিজম ব্যবহার করে নিরাপদে প্যারাস্যুটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান যে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। আল্লার অশেষ রহমতে এই দুর্ঘটনায় অন্য কোনো সাধারণ নাগরিক বা পার্শ্ববর্তী এলাকার কেউ হতাহত হননি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটি মিশিগানের আলপেনা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে আকাশে উড়েছিল।
এদিকে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এর থেকে কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চরম সতর্কতা জারি করা হয়। এর অংশ হিসেবে দুর্ঘটনা স্থলের এক মাইলের ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী নিকটস্থ বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার মধ্যেই অধিকাংশ বাসিন্দাকে নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমানে ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল এবং যুদ্ধবিমানটির ইঞ্জিনে সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।