
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসিসচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যে ভুলের কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে মনে করছে কমিশন। এ অবস্থায় ভোটের তারিখে পরিবর্তন আনার জোরালো চিন্তা চলছে এবং আজকের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিক কমিশন সভা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত রবি ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ইউপি ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছিল কমিশন। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হলেও ওই দিনই (৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর) জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা রয়েছে, বিশেষ করে ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এছাড়া ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার এবং শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় পরীক্ষার দিনগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে, তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হলেও ওই দিনটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী, যেদিনে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয় বিবেচনায় না নেওয়ায় সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বক্তব্যেও ইসি বিব্রতবোধ করছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আজকের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে আলোচনা ও পরামর্শ উঠে আসবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইউপি ভোটের তারিখ পুনর্নির্ধারণ ও চূড়ান্ত করা হবে। উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন এবং ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।