
ভারতের জনপ্রিয় ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে দুই হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর করার কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মার্কিন বড় পেমেন্ট সংস্থাগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই ইউপিআইয়ের এতদিনকার শূন্য মাশুল নীতিতে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার চুপিসারে ইউপিআইয়ের ওপর মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা ব্যবসায়ী মাশুল বসানোর রাস্তা তৈরি করেছে। তার প্রশ্ন, সরকার যদি গ্রাহকের কাছ থেকে সরাসরি মাশুল না নেওয়ার কথা বলে, তবে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপানো এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই পণ্যের দাম বাড়ার মাধ্যমে আদায় করা হবে। আমেরিকার পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধিতার মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই অবস্থানকে ‘নতিস্বীকার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
এদিকে রাহুলের এই রাজনৈতিক অভিযোগের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেন সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে বহাল থাকবে। এছাড়া দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়ীকে দেওয়া অর্থ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের লেনদেনও এই মাশুলের আওতামুক্ত থাকবে, যার ফলে প্রায় ৯৬ শতাংশ ব্যবসায়ীভিত্তিক লেনদেন অপরিবর্তিত থাকবে। জাতীয় পেমেন্ট সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বড় অঙ্কের লেনদেনে সাধারণ ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল হতে পারে, যেখানে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।