
ভারতের রাজস্থানের জয়পুরের একটি বিখ্যাত মন্দিরে বিয়ের পথে বাধা দূর হয়ে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশায় ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মন্দিরে নিবেদন করার পর বিশেষ সেই মেহেদি সংগ্রহ করতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হন। মানুষের বাঁধভাঙা ভিড় ও চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ শুরু করতে বাধ্য হয়।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘সিনজারা উৎসব’ উপলক্ষে জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যাদের বিবাহ কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা বা বাধা রয়েছে, তারা এই মন্দিরে মেহেদি নিবেদন করে থাকেন এবং পরবর্তীতে সেই পবিত্র মেহেদি নিজেদের হাতে ব্যবহার করেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এভাবে মেহেদি ব্যবহারের পর এক বছরের মধ্যেই উপযুক্ত জীবনসঙ্গী বা কাঙ্ক্ষিত বর-কনে লাভ করা সম্ভব। এই বিশ্বাস থেকেই দিল্লি, চণ্ডীগড়সহ ভারতের দূরদূরান্তের বিভিন্ন শহর থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন, এমনকি অনেকে আগের রাতেই মন্দিরের বাইরে অবস্থান নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে মন্দিরের বাইরে বিশাল জনস্রোত ও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় মহারাষ্ট্র থেকে আগত এক নারী ভক্ত অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। এই ঘটনা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে বেশ হাস্যরস ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ রসিকতা করে জানতে চেয়েছেন বলিউড তারকা সালমান খান এই ভিড়ের মধ্যে আছেন কি না, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন এত অবিবাহিত মানুষ থাকা সত্ত্বেও দেশের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা সত্যিই অবাক করার মতো।