
মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর মাধ্যমে সফটওয়্যার জালিয়াতি করে সরকারি ভাতার ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের এক ভয়ংকর দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত এই জালিয়াতির ঘটনায় ‘নগদ’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। লোপাট করা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে ‘নগদ’-এর প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয়, যা আদালতের আদেশে সম্প্রতি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ে ভাতাভোগীদের একটি অংশ টাকা উত্তোলন না করায় তাদের অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা ই-মানি সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব থেকে মোট ১ হাজার ৭০৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে অ্যাসথেটিক ডেভেলপমেন্ট, কল্লোল ডিস্ট্রিবিউশন ও ইউডিসি ডিস্ট্রিবিউশনের মতো অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। জালিয়াতির এই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্তরে স্তরে ঘোরানোর পর তা দিয়ে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (নগদ লিমিটেড) ১৬ কোটি ৮৪ লাখ শেয়ার কেনা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, লোপাটের এই অর্থ দিয়ে কেনা শেয়ারগুলো পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নামে দেখিয়ে তা বিদেশে পাচারের পাঁয়তারা করা হচ্ছিল। তানভীর আহমেদ মিশুকের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, শূন্য কুপন বন্ডের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। রাষ্ট্রীয় এই অর্থ লোপাটের ঘটনায় অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের নামে থাকা প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রি রোধে আদালতের কাছে আবেদন জানায় দুদক। এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এই শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।