
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ৬৪টি পরিবারের মাঝে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার সরকারি আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চেক হস্তান্তর করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এবারের এই কর্মসূচির আওতায় রংপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩০ জনের পরিবারকে প্রতি লাখে ৫ লাখ টাকা করে মোট দেড় কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত ১৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে মোট ১৮ লাখ টাকা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি এমন ১৬ জন ভুক্তভোগীকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৪৮ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিআরটিএ রংপুর অফিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল আলম সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের বেশিরভাগই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যাদের অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা অঙ্গ হারিয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর ক্ষতি অপূরণীয় হলেও সরকারের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বাবলম্বী করে তুলতে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ সঠিকভাবে বিনিয়োগ বা ছোট ব্যবসা পরিচালনার কাজে লাগিয়ে পরিবারগুলো যেন নিজেদের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রচার ও সচেতনতার অভাবে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারই বিআরটিএ-এর এই ক্ষতিপূরণের বিধান সম্পর্কে জানেন না। নিয়মানুযায়ী দুর্ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে ফরম-৩২ পূরণ করে বিআরটিএ জেলা সার্কেল বা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিআরটিএ-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (www.brta.gov.bd) ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।