
ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে রূপকথা বললেও কম বলা হয়। দুই সেট এবং ম্যাচের একটি ব্রেক পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন উপহার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা ফ্রান্সিস টিয়াফো। স্বদেশি তরুণ আলেকজান্ডার মিশেলসেনের বিপক্ষে দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছেন ২৮ বছর বয়সী টিয়াফো। টুর্নামেন্টের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৭, ৩-6, ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ (১০-৬) সেটে জয় তুলে নেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ২২ বছর বয়সী আনসিডেড মিশেলসেন। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নামা এই তরুণ প্রথম দুই সেট জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছিলেন। এমনকি তৃতীয় সেটেও ৫-৩ গেমে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পাচ্ছিলেন তিনি এবং ম্যাচ সার্ভ করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই স্নায়ুর চাপে ভুগে দুটি ডাবল ফল্ট করে বসেন মিশেলসেন। এই সুযোগে ঘুরে দাঁড়িয়ে তৃতীয় সেট জিতে নেন টিয়াফো। এরপর চতুর্থ সেট অনায়াসে জিতে ম্যাচ নিয়ে যান নির্ধারণী পঞ্চম সেটে। পঞ্চম ও শেষ সেটেও দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে চলতে থাকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্টের টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ম্যাচ জিতে নেন ১১তম বাছাই টিয়াফো।
ম্যাচ শেষে কোর্টের মধ্যেই এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরাজয়ের হতাশা ও কান্নায় ভেঙে পড়া তরুণ মিশেলসেনকে জাল পার হয়ে এসে জড়িয়ে ধরেন এবং সান্ত্বনা দেন বন্ধু ও সতীর্থ টিয়াফো। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষকে প্রশংসায় ভাসিয়ে টিয়াফো জানান, মিশেলসেন দারুণ একজন খেলোয়াড় এবং আজ সে জেতার মতোই খেলেছিল। এই জয়ের ফলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন টিয়াফো, যেখানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তার প্রতিপক্ষ হতে পারেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ কিংবা স্বদেশি বেম শেল্টন। গত বছর ফিটনেস ও পারফরম্যান্স নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়া টিয়াফো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের মানসিকতা ও রুটিনে যে পরিবর্তন এনেছেন, এই জয় তারই এক বড় পুরস্কার।