
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদির বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর রিয়াদের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতেই এই বিমান হামলার ঘটনা ঘটল। মারিবের একটি অংশ বর্তমানে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে সৌদির এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে হুথি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।
এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় চার জেলা—আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান এবং নাজরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে আকস্মিক ও তীব্র হামলা চালায় হুথি বাহিনী। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলায় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাদশাহ খালিদ বিমান ঘাঁটি এবং জাজান ও আবহায় অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এই বড় ধরনের আগ্রাসনের পরই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে মারিবে বিমান হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর সৌদি জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যকার সেই পুরোনো উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে।