
তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে চরম বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করে বিচারিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের জানান, আদালত কর্তৃক এক তরুণ আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে তিনি আপিল বিভাগে গিয়েছিলেন। শুনানির একপর্যায়ে তিনি প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বর্তমানে আপিল বিভাগে বেঞ্চ কমে যাওয়ায় এবং মামলার জট বেড়ে যাওয়ায় আইনজীবীরা আগের মতো সহজে শুনানি করতে পারছেন না, যার ফলে আইনজীবীদের আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তখন প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং জানতে চান—তিনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরই আইনজীবীদের আয় কমে গেছে কি না। জবাবে বার সভাপতি আদালতের বর্তমান বিচারিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, বার সভাপতি যখন আদালতের একটি আদেশ নিয়ে কথা বলতে যান এবং একপর্যায়ে আইনজীবীদের আয় কমার প্রসঙ্গ তোলেন, তখন প্রধান বিচারপতি বিষয়টিতে আপত্তি জানান। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্যমতে, এমন মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে বিচারপতিরা খাসকামরায় চলে যান। জানা গেছে, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিষয়ে একই ঘটনায় একাধিক রিট আবেদন দাখিল করে তথ্য গোপন এবং আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রিটকারী ও তার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ওই আর্থিক জরিমানা করেছিল আপিল বিভাগ।