
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারের সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে সরকার। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর আগে বিভিন্ন ধাপে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বরাদ্দকৃত সুগন্ধি চালের মোট রপ্তানি পরিমাণ সরাসরি ৫০ শতাংশ কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পূর্বের ধারাবাহিকতায় অনুমোদনের এই মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের কোনো রপ্তানিকারকই এখন থেকে তাদের আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠাতে পারবেন না। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দুই দফায় মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৬ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মাত্র ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।
রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এ দফায় মোট ১০টি সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে,রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান কঠোরভাবে মেনে চলা, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রপ্তানি সম্পন্ন করা, প্রতিটি চালানের কাস্টমস কর্তৃক পণ্যের মান যাচাই, জাহাজীকরণের পর নিয়মিত নথিপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া, সংশোধিত কোটার অতিরিক্ত এক গ্র্যাম চালও রপ্তানি না করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি এফওবি (FOB) রপ্তানিমূল্য সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা। এছাড়া অনুমোদনটি সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরার প্রমাণস্বরূপ পিআরসি (প্রসিড রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট) জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো মুহূর্তে কারণ দর্শানো ছাড়াই এই অনুমোদন বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চেয়ে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যপণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান সরকার।