
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জন্য নতুন ও যুগোপযোগী সমন্বিত আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং সুনির্দিষ্ট শিথিলতার বিধান রাখা হয়েছে।
নিচে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনে কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না:
যা করা যাবে:
ব্যানার, লিফলেট ও বিলবোর্ড: নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও নির্দিষ্ট মাপে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। যেমন—ব্যানার সর্বোচ্চ ১০×৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের এবং ফেস্টুন ১৮×২৪ ইঞ্চির মধ্যে হতে হবে।
বিলবোর্ডের ব্যবহার: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে (সিটি ও ইউনিয়ন বা পৌরসভায় প্রতি ওয়ার্ডে একটি এবং জেলা পরিষদে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড রাখা যাবে)।
মাইক ব্যবহারের সময়: দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: ফেসবুকে বা অনলাইনে প্রচার চালানো যাবে, তবে এর পেছনে যে ব্যয় হবে তা অবশ্যই মূল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
যা করা যাবে না:
পোস্টার ও পলিথিন: নির্বাচনী প্রচারে কোনো ধরনের পোস্টার লাগানো যাবে না। এছাড়া ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ কিংবা পিভিসি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রচারসামগ্রী অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে।
ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ: ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) লেনদেনের জন্য কোনো মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।
ভিআইপি বা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচার: প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো শীর্ষ ব্যক্তি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার করা যাবে না। প্রচারের কাজে কোনো ধরনের জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ।
নতুন এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিক থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।